ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দূর্নীতির বরপুত্র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজওয়ান!

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২২-০২-২০২৬ ০৩:৪৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০২-২০২৬ ০৩:৪৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দূর্নীতির বরপুত্র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজওয়ান!
পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের (DPHE) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ রেজওয়ান হোসেনকে ঘিরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন।

অভিযোগের তালিকায় অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্যসূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রেজওয়ান হোসেনের নামে ও নিয়ন্ত্রণে অন্তত পাঁচটি বহুতল বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি তার শ্বশুরবাড়ি সিরাজগঞ্জে স্ত্রী ও শ্বশুরের নামে কয়েকশ’ বিঘা কৃষিজমি থাকার কথাও আলোচনায় এসেছে। এসব সম্পদের অধিকাংশই তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও, দেশের বাইরে দুবাইয়ে তার মালিকানায় দুটি ‘শিশা বার’ (Shisha Bar) রয়েছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ্যে আসেনি। কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়িত পাবলিক হেলথের প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ‘আইরন রিমুভাল ভেসেল’ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে, যেখানে মোট কাজের মূল্য থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিত সংশ্লিষ্টতা সমালোচকদের অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রেজওয়ান হোসেন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। স্বৈরাচারী শাসনামলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও।

তদন্তের দাবি দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, রেজওয়ান হোসেনের সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, বিদেশে বিনিয়োগ এবং তার অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বিল ছাড় করাতে হলে রেজওয়ানকে ৫% পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতো। ফাইলের সঙ্গে টাকা না দিলে দিনের পর দিন বিল আটকে রাখা হতো। অনেকে ন্যায্য বিল পেতে মাসের পর মাস দৌড়াদৌড়ি করেছেন। এসব দুর্নীতির কাজ পরিচালনায় তাঁর আশপাশে একটি ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পরও প্রশাসনের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজরা বহাল থেকে দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। রেজওয়ানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে রাজনৈতিক বলয়ে থেকে নানা সুবিধা গ্রহন করেছেন।ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মাদ রেজওয়ান হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার আমলে নির্বাহী প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন এর রাজনৈতিক প্রভাবে সুবিধা গ্রহন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে অবস্থান ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে(দুদক) অভিযোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়ে হচ্ছে আগামী প্রতিবেদনে…..
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ